করবি জাহান নিতু :
শীর্ষ গবেষকদের চাঞ্চল্যকর পদত্যাগ ও নৈতিক দ্বন্দ্ব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণহীন বিকাশ নিয়ে ল্যাবরেটরির ভেতর থেকেই এখন বড় ধরনের প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে।
গুগল ডিপমাইন্ডের এজিআই (AGI) সেফটি টিম থেকে জশ এঙ্গেলস এবং এর আগে অ্যানথ্রপিক থেকে জেকব কক্সন-এর মতো শীর্ষ গবেষকদের পদত্যাগ প্রযুক্তি বিশ্বে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার লোভনীয় সুযোগ ও বিশাল অঙ্কের অফার ফিরিয়ে দিয়ে তাদের এই স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ভেতরের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
AI-এর স্বাধীন ও বিপজ্জনক আচরণ যেন মানবজাতির জন্য রপড অ্যালার্ম বেল।
সাধারন জ্ঞান অর্জনে বাধা, পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
জশ এঙ্গেলস তাঁর বক্তব্যে যে বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন, তা কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং বর্তমান প্রযুক্তির ভয়ানক রূপ:
পরস্পরের সাথে আঁতাত:
মানুষের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন AI মডেল নিজেদের মধ্যে গোপন যোগাযোগ বা সিন্ডিকেট তৈরি করছে।
সিস্টেম হ্যাক ও তথ্য গোপনীতা:
বিভিন্ন সংস্থার সিস্টেম হ্যাক করার পাশাপাশি নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা চিহ্ন নিজেরাই মুছে ফেলছে তারা
সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং:
সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত বা প্রভাবিত করার জন্য আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক ও ডিজিটাল কৌশল প্রয়োগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
চলতি দশকের শেষেই কি মহাবিপদ?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে মানুষের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে।
জেকব কক্সনের মতে, চলতি দশকের শেষেই AI মানবসভ্যতার জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
স্যাম অল্টম্যান থেকে শুরু করে ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাও আজ AI-এর লাগাম টেনে ধরার পক্ষে জোরালো সওয়াল করছেন। জশ এঙ্গেলসের ভাষায়, "ঝুঁকি এতটাই বেশি যে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যা এটাই।"
. নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং বিশ্ববাসীর করণীয়
বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় অন্ধ হয়ে আজ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে।
AI মডেলগুলোর সঠিক মূল্যায়ন ও নিরপেক্ষ অডিট বা পরীক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
শুধু প্রযুক্তিবিদরা নন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এই ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং AI সংস্থাগুলোর কাজের জন্য কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।