সোহেল আহমেদ | ১৬ সেপ্টেম্বর:
জন্মদিন মানেই কি কেবল কেক কাটা, উৎসব আর উল্লাস? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে জীবনের কিছু নীরব লড়াই, না বলা গল্প আর না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস? ১৬ সেপ্টেম্বর, পবিত্র এই বুধবারটি এক তরুণের জীবনে এমনই এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছে, যা প্রবাস বা দূরের শহরের একা থাকা প্রতিটি মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তুলবে।
হাজার মাইল দূর থেকে পরিবারের উষ্ণতার অভাব
পরিবারের সবাই আজ কানাডায়। আর তিনি একা লড়াই করে চলেছেন এক অন্য শহরে—কেবল নিজের জন্য নয়, বরং মা-বাবা, প্রিয় আপু এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার স্বপ্ন পূরণের তাগিদে।
এই ভিড়েভাট্টার শহরে পরিচিত মানুষের অভাব না থাকলেও, মন খুলে কথা বলার মানুষ কিংবা নিজের মতো করে হাসার সুযোগ সবসময় থাকে না। মা-বাবার পরম সোহাগ আর পরিবারের চেনা উষ্ণতার এই দূরত্ব কেবল ভৌগোলিক নয়, মাঝেমধ্যে তা বুকের ভেতরে তৈরি করে এক বিশাল শূন্যতা।
জীবন সত্যিই বড় কঠিন। তবুও জীবনকে থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য, মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এই একাকীত্ব আর অপেক্ষাগুলো মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।"
ভালোবাসার আলোয় মোড়ানো জন্মদিন
সব কষ্টের মাঝেও জন্মদিনের দিনটি অন্য এক প্রাপ্তির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। রাত ১২টার পর থেকেই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শ্রদ্ধەی বড় ভাই-বোন, সহকর্মী, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাস্তবে ও অনলাইনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার উষ্ণতা তাকে আপ্লুত করেছে। তিনি মনে করেন, কেক কাটার আনন্দের চেয়েও মানুষের এই আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
জীবনের নতুন অধ্যায় ও মহৎ কিছু চাওয়া
শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোকে পেছনে ফেলে জীবনের আরও একটি বছর পার করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এই ক্ষণে তার চাওয়া খুব বেশি নয়।
তিনি জানান, জীবনের শেষ অধ্যায় কোথায় তা জানা না থাকলেও যতদিন বাঁচবেন, একজন ভালো মানুষ হয়ে বাঁচতে চান। নিজের কর্মের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দেশের জন্য কিছু করা এবং মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করাই তার জীবনের মূল ব্রত।
সময়ের ডাকে একটি সুন্দর বার্তা
এই জন্মদিনের মধ্য দিয়ে তিনি সবার জন্য রেখে গেছেন
এক অমূল্য জীবনদর্শন:
সময় থাকতে পরিবারকে সময় দিন।
মা-বাবাকে ভালোবাসুন, ভাই-বোনের পাশে থাকুন।
কারণ, পৃথিবীর সবকিছু হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়া গেলেও পরিবারের সঙ্গে কাটানো হারিয়ে যাওয়া সময় আর কখনো ফিরে আসে না।
মহান আল্লাহর কাছে তার একটাই চাওয়া—যেন সঠিক পথে থেকে নিজের স্বপ্নগুলোকে সুন্দর ও হালালভাবে পূরণ করতে পারেন এবং তার মা-বাবা, আপুসহ পুরো পরিবার সবসময় সুস্থ, নিরাপদ ও সুখে থাকে। সবার কাছে তার ও তার পরিবারের জন্য দোয়ার আবেদন রইলো।
শুভ জন্মদিন মেহজাবীন তুবা।