মোঃ রাইহানুল ইসলাম
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা যুবদলকে আরও সুসংগঠিত ও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকায় রাখতে আগামী দিনের কমিটিতে ত্যাগী ও কারানির্যাতিত নেতা হাফিজ আল আসাদ (কল্লোল)-কে সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদে দেখতে চায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া এই নেতা শ্যামনগরের তরুণ ও যুবসমাজের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য—দুর্দিনের ত্যাগী ও আপসহীন নেতাদের বাদ দিয়ে কোনো কমিটি করা হলে দলের চেইন অব কমান্ড এবং মাঠপর্যায়ের স্পিরিট বিনষ্ট হবে। তাই শ্যামনগরের যুবদলকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় যুবদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি হাফিজ আল আসাদ কল্লোলকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।
বিএ (অনার্স) ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হাফিজ আল আসাদ কল্লোল ১৯৯৯ সালে শ্যামনগর মহসিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের ইয়ার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে তিনি শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (২০০০), সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের কলেজ হোস্টেলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (২০০১), প্রচার সম্পাদক (২০০২), সহ-সভাপতি (২০০৩) এবং ২০০৪ সালে জিয়া হলের নির্বাচিত সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২১ সাল থেকে তিনি শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থেকে মাঠপর্যায়ে দলীয় ভিত্তি মজবুত করে আসছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের শাসনামলে কল্লোল ও তার পরিবারের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। তার বিরুদ্ধে ৬টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা (৩টি এজাহারভুক্ত ও ৩টি অজ্ঞাতনামা) দায়ের করে বারবার কারাগারে পাঠানোর চক্রান্ত করা হয়। শুধু রাজনৈতিক হয়রানিই নয়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সশস্ত্র হামলায় তার বৃদ্ধ পিতা মারাত্মক জখম ও রক্তাক্ত হন। এমনকি তার একমাত্র আয়ের উৎস ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি ও তার পরিবার আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। এত নির্যাতন ও অর্থনৈতিক অবরোধের পরও শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে তাকে একচুলও সরানো যায়নি।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দাবি, স্বৈরাচারের আমলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত এই নেতাকে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হলে কেন্দ্রীয় যুবদলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। শ্যামনগর উপজেলার হাজারো যুবদল নেতাকর্মীর এখন একটাই দাবি—কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যেন মাঠের ত্যাগ, নির্যাতন ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করে হাফিজ আল আসাদ কল্লোলকে আগামী দিনের নেতৃত্বে নিয়ে আসেন।