ঝুমুর আক্তার :
শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুরের শিবচরে বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার পর একই পরিবারের ১১ সদস্য রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে চারজনকে রোববার (১৬ আগস্ট) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নয়ন শেখের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে রান্না করেন। রান্না শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। খাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের কয়েকজন সদস্য জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মধ্যে পড়ে যান। তাঁদের কারও নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না, এমনকি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না।
এ সময় কাজের কারণে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন পরিবারের কর্তা নয়ন শেখ। তিনি কয়েকবার বাড়িতে ফোন করেও কারও সাড়া পাননি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি আশপাশের বাড়িতে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে বলেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে এক প্রতিবেশী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে নয়ন শেখ ও তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা বাড়িতে আসেন। এদিকে হাসপাতালে অসুস্থ সদস্যদের চিকিৎসা চলার মধ্যেই রাতে বাড়িতে থাকা আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ নিয়ে একই পরিবারের মোট ১১ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নয়ন শেখের মেয়ে মনিকা আক্তার (২৭), তাঁর স্বামী শহিদুল শিকদার, সাগরিকা আক্তার (২৫), ইতি আক্তার (২০), সুমাইয়া আক্তার (২২), তাঁর স্বামী আসাদ মোড়ল, নয়ন শেখের ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান (১৪), নয়ন শেখ (৫৫) ও আমেনা বেগম (৫০)। পরিবারের আরও দুই সদস্যের নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অসুস্থ সাগরিকা আক্তার বলেন, “সকালে রান্না করে সবাইকে নিয়ে খেতে বসি। খাওয়ার একপর্যায়ে সবাই সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমাদের কারও নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলাম না।”
তিনি আরও বলেন, “বাবা ঢাকায় থেকে ফোনে আমাদের না পেয়ে পাশের আত্মীয়ের বাড়িতে ফোন দেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে এসে আমাদের উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। ঘরের সব খাবার ফেলে দেওয়া হয়। রাতে আমার ফুপু নতুন করে রান্না করেন। কিন্তু রাতে বাবা ও ফুপুও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
অসুস্থ মনিকা আক্তার বলেন, “আমাদের খাবারের সঙ্গে বা পানিতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিয়ে থাকতে পারে। তা না হলে একই পরিবারের এতজন এভাবে অসুস্থ হওয়ার কারণ কী, বুঝতে পারছি না।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াসিফ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আজ (রোববার) চিকিৎসাধীন চারজনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
একই পরিবারের সদস্যরা খাবার খাওয়ার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়া এবং পরে নতুন করে রান্না করা খাবার খাওয়ার পরও পরিবারের আরও সদস্য অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি খাবারে বিষক্রিয়া, নাকি খাবার বা পানিতে অন্য কোনো ক্ষতিকর পদার্থ মেশানোর কারণে ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।