September 4, 2026, 9:28 am
শিরোনাম:
‘বরহামগঞ্জ’ নামেই শিবচরের পরিচয়, ডাকঘরের নাম বদলের সিদ্ধান্তে  ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। পূনর্বিবেচনার দাবি শিবচরবাসীর রামু থানায় ‘দালালমুক্ত’ সেবা ও মাদকবিরোধী তৎপরতা: বদলাচ্ছে আইনশৃঙ্খলার চিত্র, প্রশংসায় নবাগত ওসি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  বর্ধিত পরীক্ষার ফি কমানোর দাবিতে  আইন কলেজের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফের ফল প্রকাশ: উত্তীর্ণ হয়ে ডাক্তার হলেন প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুর রহমান খান ওমর এর বড় ছেলে মো. শাফায়েত রহমান খান (ইওমে) কক্সবাজার   জেলায় শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে রেঞ্জ ডিআইজির হাত থেকে পুরুষ্কার গ্রহণ টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম! কক্সবাজারের হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির নবনির্মিত ব্যারাক ভবনের উদ্বোধন ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন করলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি টেকনাফে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি কালের নতুন সংবাদের ১১ বছরে পদার্পণ: কিশোরগঞ্জে কেক কাটা, আলোচনা সভা ও গুণী সাংবাদিক সম্মাননা ২০০০ পিস ইয়াবা টেবলেট সহ এক মাদক কারবারী কে আটক।

রামু থানায় ‘দালালমুক্ত’ সেবা ও মাদকবিরোধী তৎপরতা: বদলাচ্ছে আইনশৃঙ্খলার চিত্র, প্রশংসায় নবাগত ওসি।।

Reporter Name

এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার ব্যুরো।।

 

কক্সবাজারের রামু থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পুলিশ ইন্সপেক্টর এ.কে.এম. ফজলুল হক যোগদানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, সন্ত্রাস-ছিনতাই-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি পুলিশি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে রামু উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রয়েছে বলে দাবি করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রামু থানায় যোগদানের পর থেকেই অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি দুর্গম জনপদে অবস্থিত গর্জনিয়া ও ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ওসি এ.কে.এম. ফজলুল হক। এসব বৈঠকে মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্গম সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে কয়েক দফা বড় চালান ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিট পুলিশিংয়ে জনসম্পৃক্ততার উদ্যোগ
শুধু অভিযান নয়, অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছেন ওসি এ.কে.এম. ফজলুল হক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভার মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অপরাধের তথ্য সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের তথ্য পুলিশকে জানাতে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, পুলিশ যদি নিয়মিতভাবে জনগণের কাছে যায় এবং জনগণের অভিযোগ সরাসরি শোনে, তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। বিট পুলিশিং সভাগুলো এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে তারা মনে করেন।
‘দালালমুক্ত’ থানার ঘোষণা
রামু থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ওপর নির্ভরশীল না হন, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ওসি এ.কে.এম. ফজলুল হক।
মামলা, অভিযোগ কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সরাসরি থানায় এসে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। অভিযোগকারী ও সেবা প্রত্যাশীদের কথা সরাসরি শুনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, থানায় পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি ও অনিশ্চয়তা কমেছে। বিশেষ করে মামলা বা জিডি করতে গিয়ে দালালের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই—এমন বার্তা মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করছে।
কঠোর অবস্থানে মাদক ও অপরাধী চক্র
রামুর গর্জনিয়া, ঈদগড়সহ প্রত্যন্ত এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী তৎপরতা দৃশ্যমান হওয়ায় মাদক কারবারিদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। ঈদগড় এলাকায় ডাকাত ও মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও স্থানীয়ভাবে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে শুধু পুলিশি অভিযান নয়, সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে এলাকার মানুষ অবশ্যই পুলিশের পাশে থাকবে।”
একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, “বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে ছোটখাটো অপরাধও বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রামুতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকা দরকার।”
অন্যদিকে একজন সচেতন নাগরিক বলেন, “থানায় গিয়ে সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের পুলিশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হলে পুলিশের প্রতি আস্থাও বাড়বে।”
প্রশংসার পাশাপাশি অপপ্রচারের অভিযোগ
পুলিশের এসব উদ্যোগে সাধারণ মানুষের একটি অংশ সন্তুষ্ট হলেও থানাকেন্দ্রিক পুরোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা কথিত দালালচক্র এতে ক্ষুব্ধ হতে পারে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ওসির কঠোর অবস্থানের কারণে থানাকেন্দ্রিক সুবিধাভোগী একটি মহল অসন্তুষ্ট হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

রামুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি, ছিনতাই, চোরাচালান ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—নবাগত ওসি এ.কে.এম. ফজলুল হকের নেতৃত্বে রামু থানার মাদকবিরোধী অভিযান, বিট পুলিশিং, দালালমুক্ত পুলিশি সেবা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রম যেন সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
সব মিলিয়ে, যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা, জনসম্পৃক্ততা এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে রামু থানার নবাগত ওসি এ.কে.এম. ফজলুল হক স্থানীয়দের জনগনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে অভিযান ও সেবার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।