শাহীন আলম আশিক ‘
রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্হা গ্রহন করা হয়নি।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য:
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও টিকিট কাউন্টার এলাকায় দালাল চক্রের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। সরকারি খরচে পরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকে পাঠিয়ে আর্থিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতি:
হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এসেছে। অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগও পাওয়া যায়।
সিট বাণিজ্য ও রোগী ভর্তি সিন্ডিকেট:
সাধারণ রোগীদের ওয়ার্ডে বা কেবিনে সিট পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে বা বিশেষ প্রভাবে সিট দখল করে রাখে, যার ফলে সাধারণ রোগীরা ফ্লোরে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
চিকিৎসা সেবায় অবহেলা ও জনবল সংকট:
নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি না থাকা কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রায়ই করেন রোগীরা। এছাড়া ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসকদের পক্ষে মানসম্মত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা ঘাটতি:
হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ, শৌচাগার এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা নিয়ে রোগীদের নিয়মিত ক্ষোভ রয়েছে। ময়লার স্তূপ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে রোগীদের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
স্বাস্থ্য খাতের এসব অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিভিন্ন সময়ে আকস্মিক অভিযান বা তদন্ত পরিচালনা করলেও স্থায়ী ও কার্যকর তদারকির অভাবে পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি হয়নি বলে ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।