টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুল জামানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কক্সবাজারের টেকনাফে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় টেকনাফ প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে), টেকনাফ উপজেলা শাখা ও টেকনাফে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের অধিকারের ওপরও আঘাত। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে যেন জীবন দিতে না হয়, সে জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিক লুৎফুল জামান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন টেকনাফ প্রেসক্লাবের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে), টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি কায়সার জুয়েল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজিজ উল্লাহ আজিজ।
এ সময় বক্তব্য দেন বিএমইউজে টেকনাফ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আকাশ এবং সাংবাদিক ফয়েজ বিন শাকের, নুরুল আলম ও শাহিন আলম।
বক্তারা সাংবাদিক লুৎফুল জামান হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তাদের অভিন্ন দাবি—সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সত্য প্রকাশে নিয়োজিত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।