November 5, 2026, 6:52 pm
শিরোনাম:
সাভারে দুর্গাপূজার বরাদ্দের চাল উত্তোলনে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ খাদ্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে জিয়ানগরে সুপারি চুরির অভিযোগে ধাওয়া, ভ্যান-সাইকেলের সংঘর্ষে যুবকের পা ভাঙল প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মরহুম সাংবাদিক আব্দুর রহমান খান (ওমর)-এর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা ‎সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে হাফিজ আল আসাদ কল্লোলকে দেখতে চায় তৃণমূল ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান চরিত্রে জয় চৌধুরী জিয়া শিশু কিশোর কমিটি গঠন, হারুন সভাপতি, অহিদ সম্পাদক শ্যামনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘জিয়া স্মৃতি ডে-নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত ‎ ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের বিজয়। বেলাবোতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০০ মিটার অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন উচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন ১৮ সংযোগ

সাভারে দুর্গাপূজার বরাদ্দের চাল উত্তোলনে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ খাদ্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে

Reporter Name

 

 

লাল সবুজের দেশ রিপোর্ট :

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল বিতরণে স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কিছু নথিপত্রও সাংবাদিকদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্গাপূজার ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে মন্দির কমিটির সভাপতিদের অনুমতি ও স্বাক্ষর ছাড়াই বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির নেতারা। তাঁরা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অভিযোগে যেসব মন্দিরের নাম উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আশুলিয়ার বাইপাইল বসুন্ধরা গুরুদয়াল দুর্গামন্দির, শিমুলিয়া নৈহাটি সরকারবাড়ি দুর্গামন্দির, জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং নরসিংহপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির।

অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুদয়াল দুর্গামন্দিরের সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার, জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি প্রদীপ কুমারসহ আরও কয়েকজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

পূজার ব্যস্ততার সুযোগে চাল উত্তোলনের অভিযোগ

ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার ও প্রদীপ কুমার জানান, দুর্গাপূজা চলাকালে মণ্ডপের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তাঁদের বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

তাঁদের ভাষ্য, পূজার ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে চাল উত্তোলন করা সম্ভব নয় জানিয়ে পূজা শেষে কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে চাল নিয়ে আসবেন বলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানান। তখন তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা।

কিন্তু পূজা শেষে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের বিষয়ে যোগাযোগ করলে কার্যালয় থেকে তাঁদের জানানো হয়, নতুন করে স্বাক্ষর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে এবং তা বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মন্দির কমিটির সভাপতিরা বলেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছেন।

সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। এ সময় তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না বলে আশ্বস্ত করেন বলে সাংবাদিকদের দাবি।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য একই কার্যালয়ের একজন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ঘটনার বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনে মন্দির কমিটির সভাপতিদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বরাদ্দ ও বিতরণসংক্রান্ত মূল নথি যাচাই, স্বাক্ষরের সত্যতা পরীক্ষা এবং চাল উত্তোলন ও বিক্রির অর্থের হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ঘটনায় সাভার উপজেলা প্রশাসন, ঢাকা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।