সোহেল আহমেদ :
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভায় নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিক নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পৌরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমাতে এসব খাতে কার্যকর উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্ব ও ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা, নির্মাণকাজের তদারকি, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের ওপর ন্যস্ত। নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেনের দায়িত্ব পালনের মূল্যায়নেও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য।
সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নে গুরুত্ব:
ভৈরবের ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা পৌরবাসীর অন্যতম প্রত্যাশা। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেন নির্মাণ ও বিদ্যমান নালার রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৯টি সড়ক ও ৬টি ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় ১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ভৈরব হাইওয়ে থানা থেকে লালু কালুর মার্কেট এর সামনে থেকে কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজ দ্রূত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া উপজেলা ক্যাম্পাসের ভিতরে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা ও ড্রগনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
প্রকল্পগুলোর কাজ যথাসময়ে শুরু ও শেষ করা গেলে নগরবাসীর যোগাযোগব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ জন্য নিয়মিত তদারকি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
আধুনিক নগর পরিকল্পনায় নতুন প্রত্যাশা:
পরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়া একটি পৌরসভার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন টেকসই করা কঠিন। সড়ক, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন এবং ভবিষ্যৎ জনবসতির চাহিদাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
২০২৬ সালের ৯ আগস্ট ভৈরব পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (IUGIP) আওতায় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নবিষয়ক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সভার সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে নাগরিকেরা এর অগ্রগতি আরও স্পষ্টভাবে জানতে পারবেন।
পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা:
পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নালা পরিষ্কার, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অপরিহার্য। বিশেষ করে বর্ষা ও ডেঙ্গুর মৌসুমে এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রকৌশল বিভাগের অবকাঠামোগত সহায়তা, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নালার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, অভিযোগ নিষ্পত্তির সময় এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য প্রকাশ করা হলে সেবার মান মূল্যায়ন সহজ হবে।
বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহি:
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ভৈরব পৌরসভার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের পরিমাণ ৭৭ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার ৫১৭ টাকা। এ বাজেটের প্রকৃত সুফল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাজেটের মোট অঙ্কের পাশাপাশি কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কোন প্রকল্পে কত ব্যয় হয়েছে, কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে কি না—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রকল্পের গুণগত মান যাচাই এবং ত্রুটি পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।
নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ:
নির্বাহী প্রকৌশলীর কাজ শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বা দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি মান যাচাই, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিশ্চিত করা, ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়গুলোও তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা, নোটিশের পর ঠিকাদারদের পদক্ষেপ, সংস্কারকাজের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানা প্রয়োজন। এতে প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগের কার্যকারিতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
নাগরিক প্রত্যাশা: দৃশ্যমান উন্নয়ন ও মানসম্মত সেবা:
ভৈরব পৌরবাসীর প্রত্যাশা—উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। সড়কের স্থায়িত্ব, ড্রেনের কার্যকারিতা, জলাবদ্ধতা হ্রাস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধানই হবে জনসেবার অগ্রগতি মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এ জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ, ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ এবং কাজের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হয়েছে।
উপসংহার
ভৈরব পৌরসভার জনসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা নির্ভর করছে পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন, প্রকৌশলগত দক্ষতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নাগরিক চাহিদার প্রতি দায়িত্বশীলতার ওপর।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেনের দায়িত্বাধীন প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানা যায়।
নির্বাহী প্রকৌশলী
উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে তখনই, যখন পৌরবাসী উন্নত সড়ক, কার্যকর ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মানসম্মত নাগরিক সেবার সুফল সরাসরি অনুভব করবেন।
এ ব্যপারে আরিফ সারোয়ার বাতেন বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা সঠিকভাবে তদারকি করছি। পৌরবাসীর সেবায় ভৈরব পৌরসভা প্রশাসন অত্যন্ত ন্যয়নিষ্ঠার সহিত কাজ করে যাচ্ছেন।