মোঃ রাইহানুল ইসলাম
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে সুধা রানী মন্ডল (৫৫) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজা রমেশ মন্ডলের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা কমলা রানী মন্ডল (৫০) ও চাচাতো ভাই সমীর কুমার মন্ডল (২৮) আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রমেশ মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে শ্যামনগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদঘাটা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত রমেশ মন্ডল ওই গ্রামের শ্রীদাম মন্ডলের ছেলে। নিহত সুধা রানী মন্ডল একই গ্রামের মধুসূদন মন্ডলের স্ত্রী এবং আহত সমীর কুমার মন্ডল তাঁর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রমেশ মন্ডল। একপর্যায়ে তিনি ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে নিজের মা, চাচি ও চাচাতো ভাইকে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে তিনজনই গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সুধা রানী মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে সমীর কুমার মন্ডলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহত কমলা রানী মন্ডল শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে নিহত সুধা রানী মন্ডলের মরদেহ শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত রমেশ মন্ডলকে আটক করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।