নুরুল কায়সার জুয়েল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি/
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মদ ও ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের সেবন-বিক্রির অভিযোগ এবং অনলাইন জুয়ার আসর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা দিন দিন বাড়ছে। কোথাও প্রকাশ্যে, আবার কোথাও গোপনে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচল ও আড্ডা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
এদিকে মাদকের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অনলাইন জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে জুয়ার সঙ্গে অনেকে জড়িয়ে পড়ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে বিশেষ করে ছাত্র যুবক ও তরুণদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
পৌরবাসীর অভিযোগ, মাদক ও জুয়ার বিস্তারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামাজিক পরিবেশে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘরে চুরি, মালামাল চুরি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। রাতের বেলায় চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মাদক, জুয়া ও অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। নিয়মিত পুলিশি টহল, মাদকবিরোধী অভিযান এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, শুধু মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী জানান, তারা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চান। মাদক ও জুয়ার কারণে কোনো পরিবার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন—এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
পৌরবাসীর দাবি, টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, নিয়মিত রাত্রীকালীন পুলিশি টহল এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হোক।
এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী ও সচেতন মহল।