কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের টেকনাফে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, উন্নয়ন ও বিকাশে করণীয় নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) টেকনাফ উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, পাহাড়, নাফ নদী ও দ্বীপাঞ্চল ঘিরে টেকনাফের রয়েছে অপার পর্যটন সম্ভাবনা। পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউজে কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি আবদুল আলীম নোবেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক মেহেদী পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক শাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএমইউজে টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি এস এন কায়সার জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজ উল্লাহ আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন ইমন এবং সদস্য ও এডিটর অহিদুল মোস্তফাসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আলীম নোবেল বলেন, টেকনাফ একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। সরকারি উদ্যোগে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এ অঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বিএমইউজে টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি এস এন কায়সার জুয়েল বলেন, টেকনাফের পর্যটন শিল্পের বিকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকনাফের প্রকৃত সৌন্দর্য, সম্ভাবনা ও মানুষের জীবনযাত্রার ইতিবাচক চিত্র দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি টেকনাফকে পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজ উল্লাহ আজিজ বলেন, একদিকে সবুজ পাহাড়, অন্যদিকে সমুদ্রসৈকত ও নাফ নদী—প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে টেকনাফ অনন্য। এসব আকর্ষণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা টেকনাফে আসেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, অপহরণ, ডাকাতিসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নেও সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আকাশ বলেন, টেকনাফের পর্যটন সম্ভাবনাকে শুধু নেতিবাচক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে এর প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সৌন্দর্যকে সামনে আনতে হবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়ার দ্বীপ, মাথিন কূপ, টেকনাফের পাহাড়, নাফ নদী, সমুদ্রসৈকত, জিরো পয়েন্ট, কুদুমগুহা ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্থানসহ টেকনাফে পর্যটনের বহু আকর্ষণ রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব পর্যটন স্পটের যথাযথ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটনসেবা উন্নত করা গেলে টেকনাফের পর্যটন খাত আরও বিকশিত হতে পারে।
সভায় বক্তারা টেকনাফের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং গণমাধ্যমে টেকনাফের ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় দিক তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।