মোঃ রাইহানুল ইসলাম
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনিয়ম ও অবৈধ ইটভাটা নিয়ে তথ্যসংগ্রহকালে সাংবাদিককে ‘বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসা’র হুমকি দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুজ্জাহান কনকের বিরুদ্ধে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় ও দেশব্যাপী কর্মরত সাংবাদিকেরা। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এই হুমকিকে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে উপস্থিত একাধিক সংবাদকর্মী নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর পৌরসভা এলাকায় আদালতের নির্দেশ ও আইন অমান্য করে অবৈধভাবে ইটভাটা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানতে ইউএনওর কার্যালয়ে যান স্থানীয় সাংবাদিকেরা। এ সময় অবৈধ ইটভাটা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দায়িত্ব এড়িয়ে ইউএনও সামছুজ্জাহান কনক বলেন, “আমার কাছে ইটভাটার কোনো তথ্য নেই। এগুলো জেলা কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই ইটভাটা সম্পর্কে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”
বক্তব্য না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ থাকলেও, পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ‘বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসার’ মতো মাফিয়াতুল্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারমূলক হুমকি দেন ওই কর্মকর্তা। একজন সংবাদকর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে আনার এমন হুমকিতে সাংবাদিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের মতে, অবৈধ ইটভাটার মতো স্পর্শকাতর ও জনস্বার্থের বিষয়ে প্রশাসনিক বক্তব্য চাওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক অধিকার। বক্তব্য না দেওয়ার স্বাধীনতা থাকলেও, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আক্রমণ এবং প্রশাসনিক স্বৈরাচারের শামিল।
এদিকে ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “একজন সাংবাদিক তাঁর পেশাগত প্রয়োজনে অবশ্যই বক্তব্য চাইতে পারেন। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সাংবাদিককে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত যোগ্য নয়।” এই আচরণকে সম্পূর্ণ অনুচিত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “অবৈধ ইটভাটা চালানোর কোনো সুযোগ নেই। খুব শিগগিরই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে সমস্ত অবৈধ ইটভাটা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
ঘটনার সময় দৈনিক ইত্তেফাকের শ্যামনগর প্রতিনিধি শেখ আঃ হাকিম, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মোঃ আজিজুর রহমান এবং গ্রামের কাগজের প্রতিনিধি ইয়াছিন মোড়লসহ একাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক নেতারা অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন; অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
উল্লেখ থাকে যে, শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বহু অবৈধ ইটভাটা পরিচালিত হয়ে আসছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও সংবাদকর্মীদের প্রতি এমন আচরণের নেপথ্যে ইটভাটা মালিকদের আড়াল করার অপচেষ্টা রয়েছে কি না—তা নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।