এহসানুল হক রিপন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০০ মিটার অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন উচ্ছেদ এবং ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় রাইজার কেটে অবৈধ গ্যাস সংযোগের নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করা হয়। পাশাপাশি এক অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকার আলমপাড়া ও সুতারমুড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুহিলপুরের আলমপাড়া ও চান্দের হাটি-সুতারমুড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কিছুদিন পরই অসাধু চক্রগুলো আবার নতুন করে সংযোগ স্থাপন করছে। ফলে অবৈধ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সুহিলপুর এলাকায় এর আগেও একাধিকবার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধে বাখরাবাদের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, অভিযান চলাকালে সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী গ্রাহককে আটকের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন ও নারী কনস্টেবল নারগিসের মাধ্যমে কয়েকজন নারী গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে এক গ্রাহককে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ম্যাজিস্ট্রেটের ভয় দেখিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার উপপরিদর্শক মনির হোসেন ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।