September 6, 2026, 10:34 am
শিরোনাম:
​কিশোরগঞ্জের বালিখলা মাছের ঘাট: হাওরের রূপালি মাছে মুখর পাইকারি বাজার, প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন বিটিএন বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক এডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েলের জন্মদিন আজ ‘বরহামগঞ্জ’ নামেই শিবচরের পরিচয়, ডাকঘরের নাম বদলের সিদ্ধান্তে  ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। পূনর্বিবেচনার দাবি শিবচরবাসীর রামু থানায় ‘দালালমুক্ত’ সেবা ও মাদকবিরোধী তৎপরতা: বদলাচ্ছে আইনশৃঙ্খলার চিত্র, প্রশংসায় নবাগত ওসি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  বর্ধিত পরীক্ষার ফি কমানোর দাবিতে  আইন কলেজের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফের ফল প্রকাশ: উত্তীর্ণ হয়ে ডাক্তার হলেন প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুর রহমান খান ওমর এর বড় ছেলে মো. শাফায়েত রহমান খান (ইওমে) কক্সবাজার   জেলায় শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে রেঞ্জ ডিআইজির হাত থেকে পুরুষ্কার গ্রহণ টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম! কক্সবাজারের হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির নবনির্মিত ব্যারাক ভবনের উদ্বোধন ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন করলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি টেকনাফে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

​কিশোরগঞ্জের বালিখলা মাছের ঘাট: হাওরের রূপালি মাছে মুখর পাইকারি বাজার, প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন

Reporter Name
Oplus_16908288

​নিজস্ব প্রতিবেদক:মোশাররফ শেখ

বর্ষার থৈ থৈ পানি আর হাওরের বুক চিরে বয়ে চলা ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বালিখলা মাছের ঘাট। মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম ও নিকলীর হাওরাঞ্চলের তাজা ও সুস্বাদু দেশি মাছে মুখর থাকে এই পাইকারি বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় এক জমজমাট অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞে পরিণত হয় এই ঘাটটি।
​যেসব এলাকা থেকে মাছ আসে:
বালিখলা ঘাটে আসা মাছের মূল উৎস কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল। এর মধ্যে প্রধানত মিঠামইন হাওর, ইটনা হাওর, অষ্টগ্রাম ও নিকলীর বিভিন্ন প্লাবনভূমি, বিল এবং হাওর সংযোগকারী ধনু ও নরসুন্দা নদীর তীব্র স্রোত থেকে স্থানীয় জেলেরা এসব মাছ শিকার করে নিয়ে আসেন। প্রতিদিন শত শত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও ছোট নৌকা করে হাওরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ঘাটে মাছ সরবরাহ করা হয়।
​মিঠাপানির যেসব মাছ পাওয়া যায়:
বালিখলার বাজারে মিঠাপানির প্রায় সব ধরনের সুস্বাদু দেশি মাছের সমাহার দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
​বড় মাছ: আইর, বোয়াল, চিতাল, রুই, কাতলা, মৃগেল ও ঘনিয়া।
​ছোট ও মাঝারি মাছ: টেংরা, পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুর, পুঁটি, মলা, ঢেলা, চাপিলা, টাকি এবং বিভিন্ন প্রজাতির খলসা মাছ।
​বাজারের সময়সূচি:
বালিখলা মাছের বাজার মূলত সকালের বাজার। প্রতিদিন ভোররাত ৪টা থেকে ৫টার দিকে হাওর থেকে ট্রলার আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাজার শুরু হয়ে যায়। প্রধান পাইকারি বেচাকেনা ও আড়তদারি চলে সকাল ৫টা থেকে সকাল ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত। তবে এর পরেও স্থানীয় খুচরা ক্রেতাদের জন্য দুপুরের আগ পর্যন্ত মাছ কেনাবেচা চলতে থাকে।
​দৈনিক আর্থিক লেনদেন:
মৌসুমের এই সময়ে (বিশেষ করে বর্ষা ও শরৎকালে) বালিখলা ঘাটে প্রতিদিন ব্যাপক আর্থিক লেনদেন হয়। স্থানীয় আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়ে থাকে। এখানকার বিশাল লেনদেন কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ভূমিকা রাখছে।
​মাছগুলো যেসব জায়গায় যায়:
বালিখলা ঘাটে শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটেই না, বরং এখান থেকে পাইকাররা মাছ কিনে দেশের বিভিন্ন বড় বড় জেলায় সরবরাহ করেন। এই ঘাটের মাছ প্রধানত যায়:
​রাজধানী ঢাকা (কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন আড়তে)
​বাণিজ্যিক কেন্দ্র ভৈরব
​বিভাগীয় শহর সিলেট
​এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় বাজারেও এই মাছ নিয়মিত পাঠানো হয়।
​হাওরের জীবিকা নির্বাহ ও মৎস্য বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এই বালিখলা ঘাট। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা (আইস প্ল্যান্ট) এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন হলে এটি দেশের অন্যতম সেরা মৎস্য হাটে পরিণত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।