September 14, 2026, 3:24 am
শিরোনাম:
জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) : আতঙ্ক নয়, দরকার সচেতনতা – ডা. মো. তাহমিদুর রহমান মল্লিক ছাগলনাইয়া নিউ মার্কেটের পৈতৃক সম্পত্তি সুষ্ঠু বণ্টনের দাবিতে দুই ভাই ও ছয় বোনের আমরণ অনশন টেকনাফের খারাংখালীতে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পথসভা টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ গর্জনিয়ায় গোলাম মাওলার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে শায়লা, নারী-পুরুষের মিছিলে জনসমুদ্রে মতবিনিময় সভা।। ভৈরবে রুবেল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার গভীর রাতে মানুষের দুয়ারে এমপি হানজালা, হাতে খাবারের প্যাকেট রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ব্যপক অনিয়ম ও দূর্নীতি পর্ব ১ হারানো বিজ্ঞপ্তি ***হারানো বিজ্ঞপ্তি***

জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) : আতঙ্ক নয়, দরকার সচেতনতা – ডা. মো. তাহমিদুর রহমান মল্লিক

Reporter Name

স্বাস্থ্য বিভাগ,

লাল সবুজের দেশ :

আমাদের দেশে কুকুর, বিড়াল, শেয়াল বা বেজির কামড় ও আঁচড় একটি সাধারণ ঘটনা। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রাণীর মাধ্যমে ছড়াতে পারে ‘জলাতঙ্ক’ বা র‍্যাবিস নামক এক মারণব্যাধি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, জলাতঙ্কের লক্ষণ একবার শরীরে দেখা দিলে এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই এবং মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। তবে আশার কথা হলো : কামড় বা আঁচড়ের পরপরই সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই রোগ একশত ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

জলাতঙ্ক কিভাবে ছড়ায়?
র‍্যাবিস নামের একটি ভাইরাসের কারণে এ রোগ হয়। সংক্রামিত পশুর লালায় এই ভাইরাস থাকে। পশুটি যখন মানুষকে কামড়ায়, আঁচড় দেয় বা শরীরের কোনো খোলা ক্ষতস্থানে মুখ দেয়, তখন লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়।

লক্ষণসমূহ :
পশু কামড়ানোর সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে এই সময়সীমা কম-বেশিও হতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণ : কামড়ের স্থানে অস্বাভাবিক অনুভূতি, চুলকানি বা অবশ ভাব, সাথে জ্বর, মাথাব্যথা ও অস্থিরতা।
মূল লক্ষণ :
১.পানির প্রতি আতঙ্ক (হাইড্রোফোবিয়া) : রোগী পানি পান করতে গেলে বা পানি দেখলে গলার পেশিতে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক খিঁচুনি হয়, ফলে সে পানি দেখে প্রচণ্ড ভয় পায়।
২. বাতাসের প্রতি আতঙ্ক (এ্যারোফোবিয়া) : রোগীর গায়ে হালকা বাতাস লাগলে বা ফ্যানের বাতাস চললেও একই ধরনের খিঁচুনি বা আতঙ্ক তৈরি হয়।
৩. অতিরিক্ত লালা পড়া, আলো বা শব্দের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা ও মানসিক অস্থিরতা।
৪. অন্যান্য : কিছু ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে পানি বা বাতাসের ভয় থাকে না; বরং হাত-পা অবশ হয়ে আস্তে আস্তে পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) দেখা দেয়।

পশু কামড় দিলে তাৎক্ষণিক করণীয় :
১. ক্ষত ধোয়া (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ): কামড় বা আঁচড় লাগার সাথে সাথেই পানি ও কাপড় কাচার সাবান দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ক্ষতস্থানটি খুব ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ক্ষতস্থানে থাকা ভাইরাসের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
২. ভুল কাজ থেকে বিরত থাকা: ক্ষতস্থানে কখনোই বাঁধ দেওয়া, বরফ, মরিচ, চুন, বা বাঁধাকপির পাতা লাগানো যাবে না। ক্ষতস্থান সেলাই করা বা ব্যান্ডেজ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা একদম উচিত নয়।
৩. কামড় বা আঁচড় পাওয়ার পর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বিশেষ করে মাথার কাছাকাছি (গলায়/ঘাড়ে) কামড় বা আচড় দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো র‍্যাবিস প্রতিরোধক ইনজেকশন (অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন) এবং প্রয়োজনভেদে ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) নিতে হবে। সাধারণত ডেল্টয়েড পেশিতে (কাঁধে) নির্ধারিত দিনগুলোতে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়।

সচেতনতাই জলাতঙ্ক প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। পোষা প্রাণীকে নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা দিন এবং পশুর কামড় বা আঁচড়কে অবহেলা না করে অবিলম্বে সাবান-পানিতে ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।