শাহীন আলম আশিক :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাইপথে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি পলিদানাসহ (LDPE Low Density Polyethylene) দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চোরাপণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ডভ্যানসহ মোট ২১ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করা হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সানারপাড় এলাকার রানা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আটককৃতরা হলেন— পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার দাসপাড়া এলাকার মো. ওয়াহাব হাওলাদারের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম হাসান (৩২) এবং বরিশাল জেলার কাউনিয়া থানার চরবারিয়া এলাকার মো. ফিরোজ কারিগরের ছেলে মো. ইমন (২৫)। এছাড়া এ ঘটনায় মো. ইমাম হোসেন সোহাগ (৩০) নামের এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১-২ জন পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নারায়ণগঞ্জের একটি দল জানতে পারে যে, একটি চক্র অবৈধভাবে সীমান্ত এলাকা দিয়ে কোনো নিয়ম না মেনে সৌদি আরব থেকে আমদানিকৃত পলিদানা (LDPE Low Density Polyethylene) চোরাইপথে কাভার্ডভ্যানে করে নারায়ণগঞ্জের দিকে নিয়ে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় রানা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান নেয় ডিবি পুলিশ।
পরে সন্দেহভাজন ঢাকা মেট্রো-ন-২৩-১৬৯৭ নম্বরের একটি ছোট নীল রঙের কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা আসামিদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২০০টি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মোট ৫ হাজার কেজি (প্রতি বস্তায় ২৫ কেজি করে) পলিদানা পাওয়া যায়, যার প্রতিটির গায়ে ইংরেজিতে ‘Made in Saudi Arabia’ লেখা ছিল। জব্দকৃত ৫ হাজার কেজি পলিদানার বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা এবং কাভার্ডভ্যানটির আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা; অর্থাৎ মোট ২১ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, এই চোরাই মালামালগুলো ঢাকার লালবাগের একটি গোডাউনে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল এবং এর সপক্ষে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারায় একটি নিয়মিত মামলা (নম্বার- ৪৩, তারিখ- ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দযের করেছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখায় ন্যস্ত রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।